1. [email protected] : Md. Abdullah Al Mamun : Md. Abdullah Al Mamun
  2. [email protected] : admin : admin
  3. [email protected] : Shamsul Akram : Shamsul Akram
  4. [email protected] : Mohammad Anas : Mohammad Anas
  5. [email protected] : Rabiul Azam : Rabiul Azam
  6. [email protected] : Imran Khan : Imran Khan
  7. [email protected] : Juwel Rana : Juwel Rana
  8. [email protected] : Md. Mahbubur Rahman : Md. Mahbubur Rahman
  9. [email protected] : Shoyaib Forhad : Shoyaib Forhad
  10. [email protected] : Mijanur Rahman : Mijanur Rahman
  11. [email protected] : Mohoshin Reza : Mohoshin Reza
  12. [email protected] : Noman Chowdhury : Noman Chowdhury
  13. [email protected] : Nusrum Rashid : Nusrum Rashid
  14. [email protected] : Md. Rakibul Islam : Md. Rakibul Islam
  15. [email protected] : Rasel Mia : Rasel Mia
  16. [email protected] : Rayhan Hossain : Rayhan Hossain
  17. [email protected] : Md. Sabbir Ahamed : Md. Sabbir Ahamed
  18. [email protected] : Abdus Salam : Abdus Salam
  19. [email protected] : Shariful Islam : Shariful Islam
  20. [email protected] : BN Support : BN Support
  21. [email protected] : Suraiya Nasrin : Suraiya Nasrin
  22. [email protected] : Aftab Wafy : Aftab Wafy
জাপানি দুই শিশুকে ফিরে পেতে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে মায়ের আপিল - BDTone24.com
শনিবার, ১১:০৬ পূর্বাহ্ন, ২২ জানুয়ারী ২০২২ ইং, ৯ মাঘ ১৪২৮ বাংলা

জাপানি দুই শিশুকে ফিরে পেতে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে মায়ের আপিল

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সময় রবিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২১
জাপানি দুই শিশুকে ফিরে পেতে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে মায়ের আপিল

জাপানি দুই শিশুসন্তান জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনাকে ফিরে পেতে এবার হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন জাপানি মা নাকানো এরিকো।

রোববার (৫ ডিসেম্বর) সন্তানদের নিজের জিম্মায় নিতে জাপানি চিকিৎসক নাকানো এরিকো আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই আবেদন (সিএমপি) করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

এর আগে গত ২১ নভেম্বর জাপানি দুই শিশু জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনা বাংলাদেশে তাদের বাবা ইমরান শরীফের কাছে থাকবে বলে রায় দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে বলা হয়, জাপান থেকে এসে তাদের মা বছরে তিনবার ১০ দিন করে দুই সন্তানের সঙ্গে একান্তে সময় কাটাতে পারবেন। জাপানি মায়ের এই তিনবার আসা-যাওয়া ও থাকা-খাওয়ার সব খরচ শিশুদের বাবা ইমরান শরীফ বহন করবে। এর বাইরে যদি তিনি বাংলাদেশে আসা-যাওয়া করেন তাহলে তার ব্যক্তিগত খরচে করতে হবে। এ ছাড়া ছুটির দিনে অন্তত দুবার বাবা সন্তানদের মায়ের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেবেন।

এ ছাড়া আদালত বলেন, গত কয়েক মাস বাংলাদেশে অবস্থান ও যাতায়াত খরচ বাবদ শিশুদের মা নাকানো এরিকোকে ১০ লাখ টাকা দিতে বলা হয়েছিল ইমরান শরীফকে।

রায়ে আদালত বলেন, রিটটি চলমান থাকবে। রিটটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আদেশ প্রতিপালিত না হলে বা অন্য কোনো আদেশের জন্য আদালতে উভয়পক্ষ আসতে পারবে। সংশ্লিষ্ট সমাজসেবা কর্মকর্তা শিশুদের দেখভাল অব্যাহত রাখবেন। প্রতি তিন মাস অন্তর শিশুদের বিষয়ে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রারের কাছে প্রতিবেদন দিতে হবে।

এদিকে জাপানে থাকা ছোট মেয়ে হেনাকে হাইকোর্টে হাজির করানোর নির্দেশনা চেয়ে বাবা ইমরান শরীফের করা রিট খারিজ করে দিয়েছিলেন আদালত।

এরিকোর আইনজীবী শিশির মনিরের তথ্যমতে, ২০০৮ সালের ১১ জুলাই জাপানি নাগরিক ডা. এরিকো নাকানো (৪৬) ও বাংলাদেশি আমেরিকান নাগরিক শরীফ ইমরান (৫৮) জাপানি আইনানুসারে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তারা টোকিওতে বসবাস শুরু করেন। ১২ বছরের সংসারে তিনটি কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করে।

তারা হলো জেসমিন মালিকা (১১), লাইলা লিনা (১০) ও সানিয়া হেনা (৭)। এরিকো পেশায় একজন চিকিৎসক। তিন মেয়ে টোকিওর চফো সিটিতে অবস্থিত আমেরিকান স্কুল ইন জাপানের (এএসজেআই) শিক্ষার্থী ছিল।

সন্তানদের জিম্মা নিয়ে করা রিটের শুনানি শেষে রায়ের নির্ধারিত দিনে ২১ নভেম্বর হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালতে ওইদিন ইমরান শরীফের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ফিদা এম কামাল ও ফাওজিয়া করিম ফিরোজ।

তাদের সাথে ছিলেন আইনজীবী ফেরজা পারভিন, কাজী মারুফুল আলম ও ফাইজা মেহরিন। এরিকো নাকানোর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তার সাথে ছিলেন আইনজীবী সাদ্দাম হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

আদালতের রায়ের বিষয়ে ওইদিন ফাউজিয়া করিম ফিরোজ ও মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, মা দেখা-সাক্ষাৎ ও একান্তে সময় কাটানোর সুযোগ পাবেন। যেহেতু এরিকো নাকানো জাপানি নাগরিক এবং সেখানে কর্মরত, তাই তিনি প্রতি তিনমাস পরপর বাংলাদেশে এসে কমপক্ষে দশ দিন সন্তানদের সাথে সময় কাটাতে পারবেন। আর বছরে তিনবার বাংলাদেশে যাওয়া-আসাসহ সব খরচ বাবা ইমরান শরীফকে বহন করতে হবে। তবে অতিরিক্ত সময় যাওয়া-আসা করলে তার খরচ মাকেই বহন করতে হবে। এছাড়া ইমরান শরীফ মাসে কমপক্ষে দুবার ছুটির দিন সন্তানদের সঙ্গে তাদের মাকে ভিডিওকলে কথা বলার সুযোগ করে দেবেন।

রায়ে আদালত আরো বলেন, বাংলাদেশে আসা-যাওয়া এবং থাকার খরচ বাবদ ইমরান শরীফ আগামী সাত দিনের মধ্যে এরিকো নাকানোকে ১০ লাখ টাকা দিয়ে দেবেন। সমাজ সেবা অধিদফতরকে প্রতি তিনমাস পর পর হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রারের কাছে এ বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। সাথে সাথে এসব বিষয়ে সমাজ সেবা অধিদপ্তরকে বিষয়টি তদারকি করতে বলা হয়েছে।

এর আগে, রায় ঘোষণার নির্ধারিত দিন গত ১৪ নভেম্বর জাপানি নাগরিক মা নাকানো এরিকোর কাছে থাকা সন্তানকে দেশে ফেরানো ও বাংলাদেশি বাবা ইমরান শরীফের কাছে থাকা দুই সন্তানকে মায়ের কাছে রাখা সংক্রান্ত রিটের রায় পিছিয়ে ২১ নভেম্বর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট ভার্চুয়াল বেঞ্চ দিন ধার্য করেন।

ওই দম্পতির তৃতীয় সন্তানকে জাপান থেকে দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতে হাজির করার জন্য নির্দেশনা চেয়ে গত সেপ্টেম্বরে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন ইমরান শরীফের আইনজীবী। পরে মূল রিটের সাথে ওই রিটের বিষয়েও শুনানি হবে বলে আদালত গত ৩০ সেপ্টেম্বর আদেশ দেন। সেই মোতাবেক নির্ধারিত দিনে গত ২১ অক্টোবর শুনানি হয়। শুনানিতে ইমরান শরীফের আইনজীবীদের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২৮ অক্টোবর পরবর্তী দিন ধার্য করেন আদালত।

এর আগে দুই মেয়েকে আদালতে হাজির করার নির্দেশনা চেয়ে গত ১৯ আগস্ট রিট করেন জাপানি চিকিৎসক নাকানো এরিকো। এরপর জাপানি দুই শিশু এবং তাদের বাবা ইমরান শরীফকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে দুই শিশুকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন। ২২ আগস্ট দুই শিশুকে হেফাজতে নেয় সিআইডি। বিষয়টি ২৩ আগস্ট হাইকোর্টের নজরে আনেন তাদের বাবার আইনজীবী ফাওজিয়া করিম। পরে আদালত শিশুদের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তেজগাঁওয়ের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে উন্নত পরিবেশে রাখার নির্দেশ দেন। এ সময়ে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জাপানি মা ও বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বাংলাদেশী বাবা শিশুদের সাথে সময় কাটাতে পারবেন বলে আদেশে বলা হয়।

গত ২৩ আগস্ট মায়ের সাথে ঢাকা মহানগর পুলিশের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে থাকা দুই শিশুকে উন্নত বাসায় রাখার প্রস্তাব করেছিলেন তাদের বাবা ইমরান শরীফ। ৩১ আগস্ট হাইকোর্ট আদেশ দেন, বাবা-মাসহ রাজধানীর গুলশানের একটি বাসায় থাকবে জাপানি দুই শিশু জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনা। ৮ সেপ্টেম্বর আদেশ দেন দুই শিশুকে নিয়ে বেড়ানো বা মার্কেটে যাওয়ার জন্য বাইরে যেতে পারবেন মা নাকানো এরিকো।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মর্মে আদেশ দেন যে, রাজধানীর গুলশানের ফ্ল্যাটে দুই শিশু জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনার সাথে জাপানি নাগরিক মা নাকানো এরিকো রাতসহ ২৪ ঘণ্টা থাকবেন। বাবা ইমরান শরীফ শুধু দিনে সন্তানদের সাথে দেখা করতে পারবেন। এই সময়ে ওই ফ্ল্যাটের ভাড়া শিশুদের বাবা-মাকে সমানভাবে বহন করতে হবে।

দুই শিশুকন্যাকে ফিরে পেতে হাইকোর্টে শিশুদের হাজির করার নির্দেশনা চেয়ে ঢাকায় এসে গত ১৯ আগস্ট রিট আবেদন করেন জাপানি নাগরিক নাকানো এরিকো, যিনি পেশায় চিকিৎসক। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই দিনই হাইকোর্টের একই বেঞ্চ দুই শিশুকে ৩১ আগস্ট আদালতে হাজির করতে তাদের বাবা শরীফ ইমরান ও ফুফুকে নির্দেশ দেন।

চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি শরীফ ইমরানের এরিকোর সাথে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। ২১ জানুয়ারি ইমরান আমেরিকান স্কুল ইন জাপান কর্তৃপক্ষের কাছে তার মেয়ে জেসমিন মালিকাকে নিয়ে যাওয়ার আবেদন করেন। এতে এরিকোর সম্মতি না থাকায় স্কুল কর্তৃপক্ষ ইমরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। এরপর একদিন জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনা স্কুলবাসে বাড়ি ফেরার পথে বাসস্টপ থেকে ইমরান তাদের অন্য একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান।

গত ২৫ জানুয়ারি ইমরান শরীফ তার আইনজীবীর মাধ্যমে এরিকোর কাছ থেকে মেয়েদের পাসপোর্ট হস্তান্তরের আবেদন করেন। কিন্তু এরিকো ওই আবেদন প্রত্যাখ্যান করে মেয়েদের নিজ জিম্মায় পেতে আদেশ চেয়ে গত ২৮ জানুয়ারি টোকিওর পারিবারিক আদালতে মামলা করেন। আদালত ৭, ১১ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি মেয়েদের সাথে এরিকোর সাক্ষাতের অনুমতি দিয়ে আদেশ দেন।

কিন্তু ইমরান আদালতের আদেশ ভঙ্গ করে মাত্র একবার মায়ের সাথে দুই মেয়েকে সাক্ষাতের সুযোগ দেন। এরপর গত ৯ ফেব্রুয়ারি ‘মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে’ ইমরান তার মেয়েদের জন্য নতুন পাসপোর্ট গ্রহণ করেন। ২১ ফেব্রুয়ারি জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনাকে নিয়ে তিনি দুবাই হয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন।

এরপর গত ৩১ মে টোকিওর পারিবারিক আদালত জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনাকে তাদের মা এরিকোর জিম্মায় হস্তান্তরের আদেশ দেন। তবে দুই মেয়ে বাংলাদেশে থাকায় বিষয়টি নিয়ে তিনি বাংলাদেশের একজন মানবাধিকার কর্মী ও আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করেন। গত ১৮ জুলাই তিনি শ্রীলঙ্কা হয়ে বাংলাদেশে আসেন।

খবরটি শেয়ার করুন। শেয়ার অপশন না পেলে ব্রাউজারের এডব্লকার বন্ধ করুন।

এই ধরনের আরো খবর
sadeaholade
বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর : আবেদনকৃত । © ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । ওয়েবসাইটের কোন কন্টেন্ট অনুমতি ছাড়া ব্যবহার নিষিদ্ধ।
themesbazarbdtone247