যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম নারী অর্থমন্ত্রী হচ্ছেন একজন নারী। তিনি জ্যানেট ইয়েলেন। তাকেই কেবিনেটের গুরুত্বপূর্ণ এই পদে বেছে নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। সোমবার সিনেটের ভোটে জ্যানেট ইয়েলেন অর্থমন্ত্রী হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। এর আগে ১৯ জানুয়ারি কংগ্রেসে ভোটের মাধ্যমে চূড়ান্ত হয় তার মনোনয়নের বিষয়টি।
নিয়োগের পর জ্যানেট ইয়েলেন বলেন, “আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে, যুক্তরাষ্ট্রে কেউ আর ক্ষুধার্ত থাকবে না। তাদের টেবিলে খাবার থাকবে। তারা গৃহহীন হবে না। আমাদের সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করতে হবে। এবং আমি মনে করি, এসব সমস্যার ব্যাপারে কোনো ছাড় দেয়া যাবে না।”
বাইডেন সরকারের ট্রেজারি সেক্রেটারি তথা অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আসা জ্যানেট ইয়েলেন এর আগে ২০১৪-২০১৮ সাল পর্যন্ত দেশটির ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নারী হিসেবে ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পান। ২০১৮ সালে তার মেয়াদ শেষ হলে নতুন করে আর মেয়াদ বাড়াননি ডোনাল্ট ট্রাম্প।
ফেড চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ছাড়াও আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন জ্যানেট ইয়েলেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের শীর্ষ অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন তিনি। ২০০৭ সালের আর্থিক সংকটের পরে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য কাজ করার এবং মন্দা কাটিয়ে ওঠার জন্য তাঁকে কৃতিত্ব দেওয়া হয়।
তাই করোনা বিধ্বস্ত মার্কিন অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারে আস্থাটা জ্যানেট ইয়েলেনের ওপরই রাখল বাইডেন সরকার। করোনা পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা করের বোঝা থেকে সাধারণ নাগরিকদের বের করে এনে অর্থনীতির স্বাভাবিক গতি ঠিক করার দায়িত্ব এখন তাঁর ওপর। দেশটির ক্রমবর্ধমান বৈষম্য দূর করে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবেন ইয়েলেন, এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে। ব্যাংকিং খাতের সুদহার একটা স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে নিয়ে আসারও ইঙ্গিতও রয়েছে।
জ্যানেট নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইকোনোমিকসে পিএইচডি করেন। তার স্বামী জর্জ অ্যাকারলফ অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ী।
জ্যানেট ইয়েলেনের দায়িত্বের মধ্যে দিয়ে ২৩১ বছর ধরে চলা লিঙ্গবৈষম্য দূর হতে যাচ্ছে মার্কিন মুল্লুকে। ১৭৮৯ সালের বৈশ্বিক মন্দার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে লেবার মার্কেট বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদকে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হলেও এবারই প্রথম এই পদে নারীকে দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে।