1. abdullah.nwu@gmail.com : Md. Abdullah Al Mamun : Md. Abdullah Al Mamun
  2. mr.sasumon@gmail.com : Shamsul Akram : Shamsul Akram
  3. mohammadanascseiiuc@gmail.com : Mohammad Anas : Mohammad Anas
  4. rabiulazam14@gmail.com : Rabiul Azam : Rabiul Azam
  5. admin@bdtone24.com : Bengali Support : Bengali Support
  6. imrank7006@gmail.com : Imran Khan : Imran Khan
  7. meem17@gmail.com : Shoyaib Forhad : Shoyaib Forhad
  8. mohoshinreza.cs@gmail.com : Mohoshin Reza : Mohoshin Reza
  9. atmnomanchowdhury@gmail.com : Noman Chowdhury : Noman Chowdhury
  10. rasel.mia@uap-bd.edu : Rasel Mia : Rasel Mia
  11. rayhan818@gmail.com : Rayhan Hossain : Rayhan Hossain
  12. masazad1996@gmail.com : Abdus Salam : Abdus Salam
  13. islamshariful721@gmail.com : Shariful Islam : Shariful Islam
  14. suraiyanasrin9@gmail.com : Suraiya Nasrin : Suraiya Nasrin
  15. aftabwafy@gmail.com : Aftab Wafy : Aftab Wafy
১৭ এপ্রিল ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ দায় শোধ হয়েছিলো - BDTone24.com
শুক্রবার, ০৭:৩৬ অপরাহ্ন, ২৫ জুন ২০২১ ইং, ১১ আষাঢ় ১৪২৮ বাংলা

১৭ এপ্রিল ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ দায় শোধ হয়েছিলো

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সময় সোমবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২১
hanif

১৭ এপ্রিল, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। বাঙালি জাতির জীবনের একটি অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে তৎকালীন কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ গ্রহণ করে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়।

এ দেশ, এদেশের মানুষ হাজার বছর ধরে বিদেশি হানাদারদের কবলে পড়েছে। অত্যাচারিত, নির্যাতিত, নিপীড়িত হয়েছিলো। কিন্তু তারা মাথা নোয়ায়নি। শত্রুর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছে, লড়াই করেছে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ৫২’র ভাষা আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে যাত্রা শুরু হয়ে ৫৪’র যুক্ত ফ্রন্টের নির্বাচন, ৬২’র শিক্ষা আন্দোলনর পর ৬৬’তে ৬ দফার আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে জাতিকে স্বাধীনতার স্বপ্ন জাগিয়ে তুলেছিলেন।

এরপর ৬৯’র গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলো। যার ফলশ্রুতিতে ৭০’এর নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছিলো।

১৯৭০ সালের নির্বাচনেই বাঙালি স্বাধীনতার পক্ষে তাদের আকাঙ্ক্ষাটি জানিয়ে দেয়। তারপর তারা পথে নেমে আসে। স্লোগান তোলে : ‘বীর বাঙ্গালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’।

জনতার মনের আকাঙ্ক্ষাটি বহু আগে থেকেই জানতেন জনতার নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাই তিনি ৭ই মার্চ ঐতিহাসিক রেসকোর্সের জনসমুদ্রে বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা দিলেন : ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম।’

‘৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাত্রিতে পাক হানাদার বাহিনী ঢাকাসহ সারাদেশে অপারেশন সার্চলাইট নামে ইতিহাসের বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। তাৎক্ষনিক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এর পরপরই পাকিস্তানি সামরিক জান্তা বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করেন ।

বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ চার সহচর সর্বাত্মক জনযুদ্ধকে প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দিতে ভারতে আশ্রয় নেন এবং সেখানেই ১০ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্র রূপে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা ঘোষণা করা হয়।

একই সাথে প্রবাসী সরকারের এক অধ্যাদেশে ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণাকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন ও অনুমোদন করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় ১৭ এপ্রিল তৎকালীন কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় এই সরকার শপথগ্রহণ করে। ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ দায় শোধ হয়েছিলো মুজিবনগর সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে।

সব ধর্মের, সব বর্ণের মানুষের সম্প্রীতির বন্ধনে যে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন বঙ্গবন্ধু দেখেছিলেন, এই দিনে তা সত্যিকার অর্থে বাস্তবে রূপ নিলো সরকার গঠনের মাধ্যমে।

বিশ্ব মানচিত্রে যে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটেছিলো, ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল একটি ঐতিহাসিক ধাপ পেরিয়েছিলো বাংলাদেশ।

সেদিন ছিল শনিবার। সীমান্তবর্তী বৈদ্যনাথতলা গ্রামের আমবাগানের চারদিকে রাইফেল হাতে কড়া প্রহরায় বীর মুক্তিযোদ্ধারা। হাজার হাজার মুক্তিকামী বাঙালীর উপচেপড়া ভিড় চারদিকে।

ঐতিহাসিক মুহূর্তটি ধারণ করতে দেশী-বিদেশী সাংবাদিকরাও প্রস্তুত। মুক্ত আকাশের নিচে চৌকি পেতে তৈরি করা হয়েছে শপথ মঞ্চ। মঞ্চের ওপর সাজানো ৬টি চেয়ার। অনুষ্ঠানের প্রবেশপথে বাংলায় লেখা ‘স্বাগতম’।

স্থানীয় সময় ১১টা বেজে ৫০ মিনিটে আসে সেই মাহেদ্রক্ষণ। নতুন স্বাধীন রাষ্ট্রের নেতারা একে একে আসতে থাকেন। ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে প্রকম্পিত চারদিক। প্রথম শপথ মঞ্চে উঠে এলেন বঙ্গবন্ধুর আজীবনের ঘনিষ্ঠ সহচর সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাঁর পেছনে তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী, এ এইচ এম কামরুজ্জামান, বিশ্বাসঘাতক খুনী খন্দকার মোশতাক আহমেদ ও জেনারেল এম এ জি ওসমানী।

যে কোন মুহূর্তে পাক হানাদার বাহিনীর বিমান হামলার আশঙ্কার মুখে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক এ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের স্থায়িত্ব হয় মাত্র ৪৫ মিনিট। অনুষ্ঠানের সূচনায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত এবং গীতা, বাইবেল থেকে পাঠ করা হয়। স্

স্থানীয় শিল্পী এবং হাজারো মানুষের কণ্ঠে গাওয়া হয় বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি’। এরপর অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম উত্তোলন করেন মানচিত্র খচিত স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা।

এরপর আওয়ামী লীগ সংসদীয় দলের চিফ হুইপ অধ্যাপক ইউসুফ আলী ঐতিহাসিক দলিল স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। এরপর নতুন সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রীবর্গ ও সেনাবাহিনীর প্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান তিনি।

শপথগ্রহণের পর সশস্ত্র তেজোদীপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা এবং আনসার বাহিনীর সদস্যরা মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদেরকে রাষ্ট্রীয় কায়দায় ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করেন। পাক শাসকগোষ্ঠীকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় স্বাধীন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের।

শপথগ্রহণের পর পরই প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ জাতির উদ্দেশ্যে বলেন- ‘আমরা যা করছি সবই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নির্দেশে’। এ অনুষ্ঠান থেকে নতুন সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী দু’জনই বিশ্ববাসীর কাছে নতুন রাষ্ট্রের কূটনৈতিক স্বীকৃতি দান ও সামরিক সাহায্যের আবেদন জানান।

বঙ্গবন্ধুকে প্রেরণার কেন্দ্রে ধারণ করে, বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনা মোতাবেক মুজিবনগর সরকার দেশপ্রেমিক মুক্তিপাগল জনতাকে সংগঠিত করে মুক্তিযুদ্ধকে একটি সফল জনযুদ্ধে পরিণত করে।

আন্তর্জাতিক সমর্থন ও সহযোগিতা আদায়ে তারা অনন্য ভূমিকা পালন করেন। ফলে নয় মাসেরও কম সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে মুজিবনগর সরকারের গুরুত্ব ও অবদান চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই ঐতিহাসিক দিনে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং জাতীয় চার নেতাকে।

 

লেখক: মাহবুবউল আলম হানিফ
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

খবরটি শেয়ার করুন। শেয়ার অপশন না পেলে ব্রাউজারের এডব্লকার বন্ধ করুন।

এই ধরনের আরো খবর
sadeaholade
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | এই ওয়েবসাইটের কোন কন্টেন্ট অনুমতি ছাড়া ব্যবহার নিষিদ্ধ।
themesbazarbdtone247