1. abdullah.nwu@gmail.com : Md. Abdullah Al Mamun : Md. Abdullah Al Mamun
  2. mr.sasumon@gmail.com : Shamsul Akram : Shamsul Akram
  3. mohammadanascseiiuc@gmail.com : Mohammad Anas : Mohammad Anas
  4. rabiulazam14@gmail.com : Rabiul Azam : Rabiul Azam
  5. admin@bdtone24.com : Bengali Support : Bengali Support
  6. imrank7006@gmail.com : Imran Khan : Imran Khan
  7. meem17@gmail.com : Shoyaib Forhad : Shoyaib Forhad
  8. mohoshinreza.cs@gmail.com : Mohoshin Reza : Mohoshin Reza
  9. atmnomanchowdhury@gmail.com : Noman Chowdhury : Noman Chowdhury
  10. rasel.mia@uap-bd.edu : Rasel Mia : Rasel Mia
  11. rayhan818@gmail.com : Rayhan Hossain : Rayhan Hossain
  12. masazad1996@gmail.com : Abdus Salam : Abdus Salam
  13. islamshariful721@gmail.com : Shariful Islam : Shariful Islam
  14. suraiyanasrin9@gmail.com : Suraiya Nasrin : Suraiya Nasrin
  15. aftabwafy@gmail.com : Aftab Wafy : Aftab Wafy
পর্দা: ইসলামের একটি অপরিহার্য বিধান - BDTone24.com
শুক্রবার, ০৭:৫৯ অপরাহ্ন, ২৫ জুন ২০২১ ইং, ১১ আষাঢ় ১৪২৮ বাংলা

পর্দা: ইসলামের একটি অপরিহার্য বিধান

আব্দুস সালাম আজাদ । ছংছিং, চীন
  • সময় রবিবার, ৬ জুন, ২০২১
আমাদের সমাজে অনেকে আছেন যারা পর্দা বলতে শুধু গুরুত্ব দেন পোশাককে। অথচ আল্লাহ পর্দার ব্যাপারে কুরআনে সুস্পষ্ট এবং রাসূল (সাঃ) এর মাধ্যমে বিস্তারিত ব্যাখ্যা আমাদেরকে জানিয়েছেন। একজন পুরুষ এবং নারীর চলাফেরা থেকে শুরু করে সমস্ত কাজে পর্দার বিধান রয়েছে। এমনকি ফিৎনা যাতে না সৃষ্টি হয় সে বিষয়েও দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

পর্দা: ইসলামের একটি অপরিহার্য বিধান

আমাদের সমাজে অনেকে আছেন যারা পর্দা বলতে শুধু গুরুত্ব দেন পোশাককে। অথচ আল্লাহ পর্দার ব্যাপারে কুরআনে সুস্পষ্ট এবং রাসূল (সাঃ) এর মাধ্যমে বিস্তারিত ব্যাখ্যা আমাদেরকে জানিয়েছেন। একজন পুরুষ এবং নারীর চলাফেরা থেকে শুরু করে সমস্ত কাজে পর্দার বিধান রয়েছে। এমনকি ফিৎনা যাতে না সৃষ্টি হয় সে বিষয়েও দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পর্দার বিধান ভাঙনের একটি অন্যতম পথ। বিশেষ করে আমাদের সমাজের মানুষদের মধ্যে টিভি সিরিয়াল, নাটক, মুভি দেখার যে প্ররণতা তা পর্দার বিধানের সুস্পষ্ট লংঘন। বিনোদনের জন্য মানুষ শরীয়াহর নীতিমালা অনুস্মরণ না করে যখন পশ্চিমা সংস্কৃতি বেছে নেয় তখন পর্দার বিধান ভাঙা সহজ হয়ে যায়। বিনোদন জগতের সাময়িক চাকচিক্যতা, চোখ ধাঁধানো রঙ আমাদেরকে নিয়ে যাচ্ছে এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে। যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার একমাত্র উপায় হল কুরআন-সুন্নাহর সঠিক অনুসরণ।

শুধু তাই নয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যবহারের ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখা উচিত কি ধরণের এ্যাড হঠাৎ চলে আসছে। সেগুলো যদি পর্দার লংঘনে ভূমিকা রাখে তবে তা বন্ধ করার ব্যবস্থা করা দরকার। পবিত্র অবস্থায় ইন্টারনেট মাধ্যমগুলোর ব্যবহার করা জরুরী। নিজের মনকে অশ্লীলতা মুক্ত রাখার জন্য সব রকম প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাই হল পর্দার অন্যতম শর্ত। নিজের নফসকে সকল প্রকার কুপ্রবৃত্তি হতে মুক্ত রাখতে হবে। তা না হলে বাইরে পোশাকের পর্দা বজায় থাকলেও ভিতরে এবং বাস্তব জীবনে যথাযথ মূ্ল্যায়ন করা হবে না।

নিম্নে আল-কুরআন থেকে পর্দার ব্যাপারে আল্লাহর দেয়া বিধানসমূহ উল্লেখ করা হল:
১. মু’মিনদেরকে বলঃ তারা যেন দৃষ্টিকে সংযত করে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযাত করে। এতে তাদের জন্য উত্তম পবিত্রতা রয়েছে; তারা যা করে সেই বিষয়ে আল্লাহ অবহিত। (সূরা আন-নূর: ৩০)
২. ঈমান আনয়নকারিনী নারীদেরকে বলঃ তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযাত করে। তারা যেন যা সাধারণতঃ প্রকাশমান তা ব্যতীত তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে। তাদের গ্রীবা ও বক্ষদেশ যেন মাথার কাপড় দ্বারা আবৃত করে। তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভাই, ভ্রাতুস্পুত্র, ভগ্নীপুত্র, আপন নারীগণ, তাদের মালিকানাধীন দাসী, পুরুষদের মধ্যে যৌন কামনা রহিত পুরুষ এবং নারীদের গোপন অঙ্গ সম্বন্ধে অজ্ঞ বালক ব্যতীত কারও নিকট তাদের আভরণ প্রকাশ না করে। তারা যেন তাদের গোপন আভরণ প্রকাশের উদ্দেশে সজোরে পদক্ষেপ না ফেলে। হে মু’মিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। (সূরা আন-নূর: ৩১)
৩. হে নবী স্ত্রীগণ, তোমরা অন্যান্য নারীদের মত নয়, যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর তবে পরপুরুষদের সাথে কোমল কণ্ঠে এমনভাবে কথা বলো না, যাতে ব্যাধিগ্রস্ত অন্তরের মানুষ প্রলুব্ধ হয় এবং তোমরা ন্যায়সঙ্গত কথাবার্তা বল। (সূরা আহযাবঃ ৩২)
৪. তোমরা স্বগৃহে অবস্থান করবে; প্রাচীন জাহেলী যুগের মত নিজেদেরকে প্রদর্শন করে বেড়াবেনা। তোমরা সালাত কায়েম করবে ও যাকাত প্রদান করবে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অনুগত থাকবে; হে নাবীর পরিবার! আল্লাহ শুধু চান তোমাদের হতে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে সম্পূর্ণ রূপে পবিত্র করতে। (সূরা আহযাবঃ ৩৩)
৫. হে মু’মিনগণ! তোমাদেরকে অনুমতি দেয়া না হলে তোমরা খাদ্য প্রস্তুত হওয়ার আগেই আহারের জন্য নাবী-গৃহে প্রবেশ করনা। তবে তোমাদেরকে আহবান করলে তোমরা প্রবেশ কর এবং আহার শেষে তোমরা চলে যেও; তোমরা কথাবার্তায় মশগুল হয়ে পড়না। কারণ তোমাদের এই আচরণ নাবীকে পীড়া দেয়, সে তোমাদেরকে উঠিয়ে দিতে সংকোচ বোধ করে। কিন্তু আল্লাহ সত্য বলতে সংকোচ বোধ করেননা। তোমরা তার স্ত্রীদের নিকট হতে কিছু চাইলে পর্দার অন্তরাল হতে চাইবে। এই বিধান তোমাদের ও তাদের হৃদয়ের জন্য অধিকতর পবিত্র। তোমাদের কারও পক্ষে আল্লাহর রাসূলকে কষ্ট দেয়া অথবা তার মৃত্যুর পর তার স্ত্রীদেরকে বিয়ে করা সংগত নয়। আল্লাহর দৃষ্টিতে এটা ঘোরতর অপরাধ। (সূরা আহযাবঃ ৫৩)
৬. হে নবী! তুমি তোমার স্ত্রীদেরকে, কন্যাদেরকে ও মু’মিনা নারীদেরকে বলঃ তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে দেয়। এতে তাদের চেনা সহজতর হবে, ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবেনা। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরা আহযাবঃ ৫৯)

এছাড়াও সহীহ হাদীস থেকে বাছাইকৃত ১৫টি হাদীস এখানে তুলে ধরা হল:
১. দেবর মৃত্যু সমতুল্য। (মৃত্যু থেকে মানুষ যেভাবে পলায়ন বা সতর্কতা অবলম্বন করে এক্ষেত্রে তাই করতে হবে) (বুখারীঃ ৫২৩২, মুসলিমঃ ২১৭২, তিরমিযীঃ ১১৭১)
২. কোনো পুরুষ কোনো নারীর সাথে নির্জনে মিলিত হলে নিঃসন্দেহে তাদের তৃতীয়জন হয় শয়তান। (তিরমিযীঃ ১১৭১)
৩. তোমরা সেই মহিলাদের নিকট গমন করো না যাদের স্বামীরা বিদেশে আছে। কারণ, শয়তান তোমাদের রক্ত শিরায় প্রবাহিত হয়। (তিরমিযীঃ ১১৭২)
৪. কোন অবৈধ নারীকে স্পর্শ করার চেয়ে মাথায় লোহার পেরেক পুঁতে যাওয়া ভালো। (আস-সিলসিলাতুস সহীহাহঃ ২২৬)
৫. রাসূল (সঃ) বলেন, “দুই শ্রেণীর মানুষ জাহান্নামের অধিবাসী যাদেরকে আমি দেখিনি। তারা ভবিষ্যতে আসবে। প্রথম শ্রেণী হবে একদল অত্যাচারী, যাদের সঙ্গে থাকবে গরুর লেজের মত চাবুক যার দ্বারা তারা লোকদেরকে প্রহার করবে। আর দ্বিতীয় শ্রেণী হল সে নারীর দল, যারা কাপড় পরিধান করবে কিন্তু তবুও তারা উলঙ্গ অবস্থায় থাকবে, নিজেরা অন্যদের প্রতি আকৃষ্ট এবং অন্যদেরকেও তাদের প্রতি আকৃষ্ট করবে, যাদের মস্তক (খোঁপা বাধার কারণে) উটের হেলে যাওয়া কুঁজের মত হবে। তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। তার গন্ধও পাবে না। অথচ জান্নাতের সুগন্ধ বহু দূরবর্তী স্থান থেকেও পাওয়া যাবে।” (মুসলিমঃ ২১২৮)
৬. রাসূল (সঃ) মসজিদের বাহিরে দেখতে পান যে, নারীরা রাস্তায় পুরুষের সাথে মিশে গেছেন। তখন আল্লাহর রাসূল (সঃ) নারীদের বলেন, তোমরা অপেক্ষা কর, কারণ, তোমাদের জন্য রাস্তার মাঝে হাটা উচিত নয়, তোমাদের জন্য হল রাস্তার পাশ। এ কথা শোনে নারী দেয়াল ঘেঁসে হাটা শুরু করে তখন দেখা গেল তাদের অনেকের কাপড় দেয়ালের সাথে মিশে যেত। (আবু দাউদঃ ৫২৭২)
৭. কোন মহিলা যেন মাহরাম পুরুষ ছাড়া একাকিনী সফর না করে, তার নিকট যেন মাহরাম ছাড়া কোনো বেগানা পুরুষ প্রবেশ না করে, এ কথা শোনে এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন, হে রাসূলুল্লাহ (সঃ) আমি অমুক অমুক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার জন্য সৈন্য দলে নাম লিখিয়েছি অথচ আমার স্ত্রী হজের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছেন এখন আমি কি করব? রাসূল (সঃ) তাকে উত্তর দিলেন তুমি তার সাথে বের হও। (বুখারীঃ ১৮৬২)
৮. নারী গুপ্ত জিনিস, সুতরাং যখন সে যখন (বাড়ি হতে) বের হয়, তখন শয়তান তাকে পুরুষের দৃষ্টিতে রমণীয় করে দেখায়। (তিরমিযীঃ ১১৩৭)
৯. রাসূল (সঃ) আমাদেরকে নিষেধ করেছেন যে, “আমরা যেন মহিলাদের নিকট তাদের স্বামীদের বিনা অনুমতিতে গমন না করি।” (তিরমিযীঃ ২৭৭৯)
১০. প্রত্যেক চক্ষুই ব্যভিচারী। আর নারী যদি সুগন্ধি ব্যবহার করে কোনো (পুরুষের) মজলিসের পাশ দিয়ে পার হয়ে যায় তাহলে সে এক বেশ্যা। এমন কি এই অবস্থায় নামাযের জন্য যেতেও নিষিদ্ধ। রাসূল (সঃ) বলেন, “যে মহিলা সেন্ট ব্যবহার করে মসজিদে যায়, সেই মহিলার গোসল না করা পর্যন্ত কোনো নামায কবুল হবে না।” (সহীহ আল-জামে আস-সগীর আযযিয়াদাতুহঃ ২৭০)
১১. আদম সন্তানের উপর ব্যভিচারের কিছু অংশ লিপিবদ্ধ হয়েছে সে অবশ্যই তার মধ্যে লিপ্ত হবে। দুই চোখের ব্যভিচার হল দৃষ্টি, দুই কানের ব্যভিচার হল শ্রবণ, মুখের ব্যাভিচার হল কথা বলা, হাতের ব্যভিচার হল স্পর্শ করা এবং পায়ের ব্যভিচার হল খারাপ উদ্দেশ্যে অগ্রসর হওয়া। আর অন্তর আশা ও আকাঙ্ক্ষা করতে থাকে। লজ্জা স্থান তাকে বাস্তবায়ন করে অথবা মিথ্যায় পরিণত করে। (মুসলিমঃ ২৬৫৭)
১২. যে নারী স্বগৃহ, স্বামীগৃহ বা মায়ের বাড়ি ছাড়া অন্য স্থানে নিজের পর্দা রাখে (কাপড় খোলে) সে তার ও তার রবের মধ্যকার পর্দা ও লজ্জাশীলতাকে বিদীর্ণ করে দেয়। (তিরমিযীঃ ২৮০৩)
১৩. (কোন নারীর উপর তোমার দৃষ্টি পড়লে তার প্রতি) বারবার দৃষ্টিপাত করো না। বরং নজর অতিসত্তর ফিরিয়ে নিও, কারণ, তোমার জন্য প্রথমবার ক্ষমা, দ্বিতীয়বার নয়। (আহমদঃ ১৩৬৯)
১৪. নারীদের বেশ ধারী পুরুষের উপর অভিশাপ এবং পুরুষদের বেশ ধারিণী নারীদের উপর আল্লাহর অভিশাপ। (ইবনে মাজাহঃ ১৯০৪)
১৫. যে নারী তার মাথায় এমন চুল বাড়তি লাগায় যা তার মাথার নয়, সে তার মাথায় জালিয়াতি সংযোগ করে। (সহীহ আল-জামিউস সাগীরঃ ২৭০৫)

প্রতিটি মুসলিম নর-নারীর উচিত পর্দার বিধান নিয়ে বিস্তারিত পড়াশোনা করা। যে মানুষের জ্ঞান ই নেই সে কি করে মানবে! কোন কাজ বাস্তবিকভাবে করার আগে সে বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। তাই ইসলামের বিধানগুলো পালনের ক্ষেত্রে আগে জানতে হবে। এক্ষেতে পড়াশোনার কোন বিকল্প নেই। আসুন পড়াশোনা করি, নিজ নিজ ঘরে অথবা পরিবারে ব্যক্তিগত গন্থগার গড়ে তুলি।

খবরটি শেয়ার করুন। শেয়ার অপশন না পেলে ব্রাউজারের এডব্লকার বন্ধ করুন।

এই ধরনের আরো খবর
sadeaholade
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | এই ওয়েবসাইটের কোন কন্টেন্ট অনুমতি ছাড়া ব্যবহার নিষিদ্ধ।
themesbazarbdtone247