ঢাকা   রোববার ০৬ এপ্রিল ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১, ০৬ শাওয়াল ১৪৪৬

‘এজেন্ট টু এজেন্ট’ এয়ার টিকিট বিক্রি বন্ধে আপত্তি ব্যবসায়ীদের

‘এজেন্ট টু এজেন্ট’ এয়ার টিকিট বিক্রি বন্ধে আপত্তি ব্যবসায়ীদের

‘এজেন্ট টু এজেন্ট’ এয়ার টিকিট বিক্রি বন্ধে আপত্তি ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসায়ীদের

লাইসেন্সপ্রাপ্ত এক ট্রাভেল এজেন্সি আরেক ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে এয়ার টিকিট ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবে না। দেশে ট্রাভেল এজেন্সি (ভ্রমণ সংস্থা) ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রথমবারের মতো একটি পরিপত্র তৈরি করতে যাচ্ছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।

গ্রাহক হয়রানি প্রতিরোধের পাশাপাশি ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসা পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এই ধারাটি খসড়ায় যুক্ত করার কথা জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

তবে এই ধারার সঙ্গে দ্বিমত জানিয়েছেন এই খাতের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা। তাঁরা বলছেন, এই ধারাসহ পরিপত্র কার্যকর হলে দেশের অনেক ট্রাভেল এজেন্সি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বিশ্বব্যাপী ট্রাভেল ব্যবসায় এজেন্ট টু এজেন্ট (বি-টু-বি) মডেল প্রচলিত। সব দেশেই এক ট্রাভেল এজেন্সি আরেক ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে টিকিট ক্রয়-বিক্রয় করতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশে এই নিয়মের ব্যত্যয় হলে স্থানীয় ট্রাভেল এজেন্সিগুলো আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারবে না। পাশাপাশি এই খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে জড়িত লাখো মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

খসড়া পরিপত্রের আরেকটি ধারায় বলা হয়েছে, ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসা করার জন্য আবশ্যিকভাবে ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আয়াটা) স্বীকৃতি ও সদস্যপদ নিতে হবে। ট্রাভেল এজেন্সি সূত্রের ভাষ্য, একটি এজেন্সিকে আয়াটার সদস্যপদের জন্য আবেদন করতে হলে কমপক্ষে ছয় মাস ব্যবসা করতে হয়। সর্বনিম্ন ৩০ লাখ টাকার ব্যাংক গ্যারান্টিসহ নানা কাগজপত্র আয়াটার বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার বরাবর জমা দিতে হয়। সব কাগজপত্র ঠিক থাকলে ৩০ লাখ টাকার ব্যাংক গ্যারান্টিতে মাত্র তিন থেকে চারটি এয়ারলাইনসের টিকিট কাটার অনুমতি পাওয়া যায়। ট্রাভেল এজেন্সি গ্যারান্টিকৃত অর্থের সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ, অর্থাৎ ২১ লাখ টাকার টিকিট কিনতে পারে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সরকার কর্তৃক নিবন্ধিত এজেন্সিগুলোর মধ্যে ৪ হাজার ৪৭৬টি, অর্থাৎ ৮৩ শতাংশের আয়াটার স্বীকৃতিপত্র নেই। ফলে নতুন পরিপত্র জারি হলে সঙ্গে সঙ্গে এই এজেন্সিগুলো আর টিকিট বিক্রি করতে পারবে না। তখন টিকিটের সংকট দেখা দেবে। ভোগান্তিতে পড়বেন যাত্রীরা।

ট্রাভেল এজেন্সির মালিকেরা বলছেন, যেখানে সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে অধিকসংখ্যক এজেন্সির মাধ্যমে টিকিট বিক্রির কথা, সেখানে শুধু আয়াটার এজেন্সির মাধ্যমে টিকিট বিক্রি করা হলে আরও বড় সিন্ডিকেটের জন্ম হবে। একই সঙ্গে এই পরিপত্র জারি হলে ট্রাভেল ব্যবসার সঙ্গে জড়িত পাঁচ হাজারের বেশি উদ্যোক্তা সর্বস্বান্ত হয়ে পড়বেন।